ছবি আঁকার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। তেলরং, জলরং, পোস্টার রং, অ্যাক্রেলিক রং, এনামেল রং, পেনসিল, কালি, প্যাস্টেল, রঙিন অক্সাইড, প্লাস্টিক রংসহ বহু রকম মাধ্যমে ছবি আঁকা হয়। শিল্পী তার সুবিধা ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো মাধ্যমেই একটি ভালো ছবি আঁকতে পারেন। জলরং, পোস্টার রং হলো পানি দিয়ে মিশিয়ে আঁকার রং। অ্যাক্রেলিক রঙেও পানি মিশিয়ে আঁকা যায়। এগুলোকে জল মাধ্যমের রং বলে। সে অর্থে রঙিন অক্সাইড বা প্লাস্টিক রংও ওয়াটার বেইস্ড রং। তবে অক্সাইডের সাথে পানি ও গাম মিশিয়ে আঁকতে হয়। এগুলো অস্বচ্ছ রং। জলরং হচ্ছে স্বচ্ছ রং। স্বচ্ছ মানে কাগজে একটি রঙের উপর আরেকটি রং প্রয়োগ করলে নিচের রংটিও দৃশ্যমান থাকে। দুটি রঙেরই আবেদন পাওয়া যায়। অন্যদিকে পোস্টার বা অ্যাক্রেলিক রং অস্বচ্ছভাবে ভারী করে প্রয়োগ করা চলে। আবার পাতলা করে গুলিয়ে স্বচ্ছ রং হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তবে জলরং, পোস্টার রং এগুলো সাধারণত কাগজেই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অ্যাক্রেলিক ও অক্সাইড রং কাগজ, ক্যানভাস বা হার্ডবোর্ডেও ব্যবহার করা যায়।
| কাজ: কাগজে স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ রং শনাক্ত করো। |
তেলরং, এনামেল রং এগুলো তেল দিয়ে মেশাতে হয়। এগুলোও অস্বচ্ছ রং অর্থাৎ একটি রঙের উপর আরেকটি রং প্রয়োগ করলে নিচের রংটি ঢেকে যায়। এছাড়া কালি-কলম ও কালি-তুলিতেও ছবি আঁকা যায়। এগুলো দিয়ে সাদা-কালো ছবি হয়। রঙিন কালিও পাওয়া যায়। তা দিয়ে জলরঙের মতো ছবি আঁকা যায়। আরও কিছু মাধ্যমে সাদা-কালো ছবি আঁকা যায়। যেমন- কাঠকয়লা, ক্রেয়ন ও কালো রঙের মার্কিং কলম। বাড়ির সাধারণ কাঠকয়লা দিয়েও আঁকা যেতে পারে। কিন্তু তা খুব একটা সুবিধার নয়। ছবি আঁকার জন্য একরকম নরম ও সরু কাঠি দিয়ে কয়লা তৈরি করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে পেনসিল ও প্যাস্টেল ব্যবহার করে ছবি আঁকা সুবিধাজনক।